প্রথমবারের মতো ইয়েননির্ভর স্টেবলকয়েন চালু

বিশ্বের প্রথম ইয়েন-পেগড বা ইয়েনের বিনিময় হারনির্ভর স্টেবলকয়েন চালু হয়েছে জাপানে।

বিশ্বের প্রথম ইয়েন-পেগড বা ইয়েনের বিনিময় হারনির্ভর স্টেবলকয়েন চালু হয়েছে জাপানে। গতকালের এ উদ্যোগ বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ছোট হলেও দেশটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ জাপানের ভোক্তাদের বড় অংশ এখনো নগদ অর্থ ও ক্রেডিট কার্ডের মতো পুরনো ধাঁচের লেনদেন পদ্ধতির ওপর নির্ভর করেন। খবর রয়টার্স।

নিজেদের নামে এ স্টেবলকয়েন ইস্যু করেছে জাপানের স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান জেপিওয়াইসি। ডিজিটাল মুদ্রাটি পুরোপুরি জাপানি ইয়েনে রূপান্তরযোগ্য এবং প্রচলিত সেভিংস ও জাপান সরকারের বন্ড (জেজিবি) সমর্থিত।

প্রতিষ্ঠানটি তিন বছরের মধ্যে ১০ ট্রিলিয়ন ইয়েন বা প্রায় ৬৬ ডলার মূল্যের জেপিওয়াইসি ইস্যুর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। একই সঙ্গে বিদেশেও এ ডিজিটাল সম্পদ ব্যাপকভাবে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। শুরুতে লেনদেন ফি না নিয়ে ব্যবহারকারীদের আকৃষ্ট করতে চায় জেপিওয়াইসি। এ সময় তারা আয়ের জন্য সরকারি বন্ডে বিনিয়োগের ওপর নির্ভর করবে।

জেপিওয়াইসির প্রধান নির্বাহী নোরিতাকা ওকাবে গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আশা করি, কম লেনদেন ও নিষ্পত্তি খরচের মাধ্যমে স্টার্টআপগুলোকে নতুন উদ্ভাবনের সুযোগ দিতে পারব আমরা।’

তিনি আরো বলেন, ‘যদি বিশ্বজুড়ে আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সংযোগ বাড়ে, তাহলে সেটার লাভ আমরাও পাব। তাই আমরা চাই, অন্য বিনিয়োগকারীরা আমাদের সঙ্গে অংশীদার হিসেবে যুক্ত হোক।’

ব্লকচেইন-ভিত্তিক স্টেবলকয়েন সাধারণত মান নির্ধারণে কোনো বৈধ মুদ্রার ওপর নির্ভর করে থাকে এবং এটি দ্রুত ও কম খরচে লেনদেনের সুবিধা দেয়।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দৃঢ় সমর্থনে মার্কিন ডলার-নির্ভর স্টেবলকয়েন সাম্প্রতিক মাসগুলোয় দ্রুত জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল সেটলমেন্টসের (বিআইএস) তথ্যানুসারে, বর্তমানে বিশ্বে সরবরাহকৃত মোট স্টেবলকয়েনের ৯৯ শতাংশেরও বেশি ডলার নির্ভর।

স্টেবলকয়েন নিয়ে বৈশ্বিক আগ্রহও বাড়ছে। সম্প্রতি জাপানের শীর্ষ তিনটি ব্যাংক যৌথভাবে স্টেবলকয়েন ইস্যু করার পরিকল্পনা করছে।

জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (বিওজে) সাবেক নির্বাহী ও বর্তমানে রিক্কিও ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক তোমোয়ুকি শিমোদা বলেন, ‘ইয়েন ভিত্তিক স্টেবলকয়েনের প্রভাব মার্কিন ডলার-সমর্থিত কয়েনের মতো হবে না। কারণ ডলার হচ্ছে বিশ্বের রিজার্ভ মুদ্রা এবং এটি বৈশ্বিকভাবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।’

তিনি জানান, জাপানে ইয়েন স্টেবলকয়েন জনপ্রিয় হবে কিনা তা নিয়ে অনেক অনিশ্চয়তা আছে। যদি মেগাব্যাংকগুলো বাজারে যুক্ত হয়, গতি বাড়তে পারে। তবু এতে অন্তত দুই-তিন বছর সময় লাগবে।

এদিকে নীতিনির্ধারকরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার তুলনায় অর্থ স্থানান্তর সহজ করবে স্টেবলকয়েন। এতে বৈশ্বিক অর্থপ্রবাহে বাণিজ্যিক ব্যাংকের ভূমিকা দুর্বল হতে পারে।

বিওজের ডেপুটি গভর্নর রিওজো হিমিনো সম্প্রতি এক ভাষণে বলেন, ‘বৈশ্বিক পেমেন্ট ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হয়ে উঠতে পারে স্টেবলকয়েন। আংশিকভাবে এটি ব্যাংক আমানতের ভূমিকা নিতে পারে।’

এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়া এরই মধ্যে ওন-ভিত্তিক স্টেবলকয়েনের অনুমতি দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এ মহাদেশের শীর্ষ অর্থনীতি চীনও ইউয়াননির্ভর স্টেবলকয়েন ব্যবহারের অনুমোদন বিবেচনা করছে।

আরও